1. [email protected] : magura :
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:২৯ অপরাহ্ন

মাগুরায় লকডাউনে দুধ বিক্রি বন্ধ বিপাকে জেলার ৪৯৯ জন খামারি – দৈনিক মাগুরা

এস আলম তুহিন ,মাগুরা
  • Update Time : বুধবার, ৩০ জুন, ২০২১
  • ১৫৩ Time View
ছবি : দৈনিক মাগুরা

মাগুরায় লকডাউনের কারণে জেলার ৪৯৯ জন খামারিরা দুধ বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন । দুধ বিক্রি করতে না পেরে অনেক খামারীরা গর্তে বা ড্রেনে ফেলে দিচ্ছেন নিয়মিত । খামারিদের উৎপাদিত দুধ বহনকারি কোন যানবহন শহরে ডুকতে পারছে না । ফলে সেই দুধ নিয়ে আবার খামারে ফিরে যেতে হচ্ছে যানবহনকে । এতে আর্থিক সংকটের কারণে অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেকে খামারের শ্রকিদের পাওনা বেতন পরিশোধ করতে গরু বিক্রি করছেন ।

মাত্র ৩ বছর আগে ৪ টি ফ্রিজিয়ান গরু নিয়ে সদরের বেলনগর গ্রামে নিজের বাড়িতে খামার গড়েছিলেন শামীমা সুলতানা । শুরুতে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের পরিশ্রমে খামারটির গরু গুলো লালিত-পালিত হতে থাকে । এ গরুগুলো থেকে শামীমা প্রতিদিন ১২ কেজি দুধ পেত । দুধ ব্যাপারীরা নিজ খামারে এসে দুধ নিয়ে যেত । প্রতি কেজি দুধ ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হতো । এইভাবেই চলতে থাকে শামীমা’র খামার।

ছবি : দৈনিক মাগুরা

বর্তমানে নিজের পরিশ্রম ও সার্বিক চেষ্টায় খামারটির আয়তন বাড়তে থাকে । এখন তার খামারে গরুর বাছুরসহ মোট ২০টি গরু হয়েছে । তার মধ্যে ১১টি গরুতে দুধ দেয় । এ গরুতে প্রতিদিন খামারে ১৩০ কেজি দুধ দেয় । এ দুধ গুলো শহরের বিভিন্ন হোটেলে ও আইসক্রিম ফ্যাক্টারি সংগ্রহ করে । প্রতিদিন ৬ হাজার টাকার দুধ বিক্রি করে শামীমা ।

খামারি শামীমা সুলতানা জানান,প্রতিদিন আমার খামারে ১১টি গরু থেকে ১৩০ লিটার উৎপাদন হয় । বর্তমানে চলমান লকডাউনে খামারের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে না পেতে ফেলে দিতে হচ্ছে । দুধ পরিবহন গাড়ী শহরে প্রবেশ করতে পারছে না । শহরের বিভিন্ন হোটেল ও আইসক্রিম ফ্যাক্টারিগুলো আমার দুধ সংগ্রহ করে । কিন্তু করোনার বিধিনিষেধের আরোপের ফলে আমরা খামারিরা বিপাকে পড়েছি । খামারের গরুর খাবার , শ্রমিক ও বিদ্যুৎ খরচ বাবদ আমার প্রতি মাসে ৬০-৭০ হাজার টাকা খরচ হয় । কিন্তু দুধ বিক্রি না হওয়াতে আমি আর্থিক সংকটে পড়েছি । এভাবে চলতে থাকলে খামার বন্ধ হয়ে যাবে । যেখানে প্রতি মাসে আমার আয় হতো ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা । বর্তমানে আমার প্রতি মাসে দুধ বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার টাকা । আমার উৎপাদন খরচ না উঠায় প্রতি মাসে ভুর্তকি নিয়ে চালাতে হচ্ছে ।

একই গ্রামের অপর খামারী হাজেরা খাতুন জানান,লকডাউনে আমার খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম । আমার খামারে ৮টি গরু রয়েছে । এ গুলোতে প্রতিদিন ২০ কেজি দুধ হয় । খামারে প্রতিদিন খরচ ৩-৪ হাজার টাকার । বর্তমানে প্রতিদিন দুধ বিক্রি হচ্ছে ২-৩ হাজার টাকা । আবার সব দুধ বিক্রি না হওয়াতে আমরা বিপাকে পড়েছি । আবার এ দুধ বাছুর গুলোকে খাওয়ালে তারা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে । ফলে আমাদের সমস্যার অন্ত নেই ।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: হাদিউজ্জামান জানান, জেলায় মোট ৪৯৯টি খামার রয়েছে । জেলার খামারীদের উদ্ভদ্ধ করতে আমরা তাদের প্রশিক্ষণ ও নানা পরামর্শ দিয়ে থাকি । বর্তমানে আমরা একটি কঠিন সময় পার করছি । এখন লকডাউন চলছে । এ সময়ে জেলার খামারিরা নানা প্রতিকুল অবস্থার মধ্যে আছে । ক্ষতিগ্রস্থ খামারিদের সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার জন্য সরকার কাজ করছে । আমরা খামারিদের ঐক্যবদ্ধ করে ভ্রাম্যমান ভাবে তাদের সাহায্য করবো।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক মাগুরা.কম
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )