1. [email protected] : magura :
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০১:১২ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘ ১৫ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় হতাশাগ্রস্ত মাগুরার শিক্ষার্থীরা- দৈনিক মাগুরা

এস আলম তুহিন ,মাগুরা
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১
  • ১৬৭ Time View
ছবি: দৈনিক মাগুরা

করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ১৫ মাস দেশের সকল স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে । এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গে৯লেও স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় খোলেনি । দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা যাতে আক্রান্ত না হয় সে জন্য সরকার বার বার স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় খোলার তারিখ পরিবর্তন করছে । শিক্ষা একটি দেশের মুল কাঠামো । আর যে দেশের শিক্ষার মান যত বেশি সে দেশ তত উন্নত । কিন্তু মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে আজ শিক্ষা ব্যবস্থা লন্ডভন্ড । দীর্ঘ দিন স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে দেশের শিক্ষার্থীরা মানসিক হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে ।

ফেসবুক লিংক: দৈনিক মাগুরা  https://web.facebook.com/dainilkmagura

এদিকে ,দীর্ঘদিন স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা । অনেকেরই আচার-আচারণেও পরিলক্ষিত হচ্ছে উল্লখ্যযোগ্য পরিবর্তন । এই মানসিক দূরাবস্থা থেকে উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দ্রুুততম সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া প্রয়াজন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ অভিভাবক মহল । তারা মনে করছেন করোনা পরবতী সময়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল ক্যাম্পাসে ক্লাস করত,বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিত,বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিজেদের জড়িত রাখত । কিন্তু দীর্ঘ এই বন্ধে সেটি সম্ভব হচ্ছে না । একাকীত্ব,স্মার্টফোনে ও ইন্টারনেট আসক্তি ইত্যাদি কারণে বেশিরভাগ শিক্ষাথীর মনের ওপরবিরুপ প্রভাব পড়ছে ।

এছাড়া,দীর্ঘ এই বন্ধে সেশন জট,চাকুরিতে প্রবেশ ইত্যাদিতে অনেক শিক্ষার্থী শঙ্কিত হয়ে পড়েছে ।পাশাপাশি স্কুল-কলেজ পড়–য়া অনেকেই টিউশনি ,পার্ট টাইম চাকুরি ইত্যাদি উপায়ে আয় করতেন কিন্তু সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে অনেকের । এসব কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা দুচিন্তা,হতাশা,মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়াসহ অনেক শিক্ষার্থী বিপদগ্রামী হচ্ছে । অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়া বাদ দিয়ে শুধু মোবাইল নির্ভও হয়ে পড়েছে । সাধারণ নিয়মে কোন লেখাপড়া না থাকায় সারাদিন শিক্ষাথীরা মোবাইল ফোনে ইন্টারনেটের সাহায্যে গেম খেলায় ব্যস্ত সময় পার করছে । শুধু স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা আজ বাড়িতে মোবাইলে গেম খেলছে । কোন ভাবেই তাদেরকে বই মুখি করতে পারছে না অভিভাভকেরা ।

নাজমুন নাহার রত্না নামে এক অভিভাবক বলেন,দীর্ঘ ছুটি ছেলেমেয়েরা বাড়িতে পড়াশুনা করছে না । আমার মেয়ে গত বছর ৪র্থ শ্রেণিতে ছিল । সে অটো পাশ করে ৫ম শ্রেণিতে উঠেছে । এবার সে সমাপনী পরীক্ষার্থী । বছরের শুরুর দিকে সে পড়ালেখা করলেও বর্তমানে ঠিক মতো পড়ছে না । সে স্কুলে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েছে । দীর্ঘ ছুটি থাকার কারণে তার মানসিক হতাশা দিন দিন বাড়ছে ।

মাহাবুব নামে এক দরিদ্র কলেজ শিক্ষার্থী বলেন,কলেজ বন্ধ থাকায় আমাদের পড়াশুনা ব্যাহত হচ্ছে । নিয়মিত ক্লাস না করলে ভালো ফল হয় না । আমার বাবা পেশায় অটোচালক । অনলাইনে ক্লাস হয় কিন্তু ইন্টারনেটে অনেক খরচ তাই ক্লাস করতে পারছি না ।

ফেসবুক গ্রুপ : দৈনিক মাগুরা  https://web.facebook.com/groups/398623661294276

শ্রীপুর জিকে আইডিয়াল কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ ইমাম জাফর বলেন,সকল শিক্ষার্থীকে অনলাইনের আওতায় এনে পাঠদান করানো সম্ভব হচ্ছে না । আমাদের প্রতিষ্ঠানটি শহর থেকে অনেক দূরে গ্রামে । গ্রামে ইন্টারনেট ভালো কাজ করে না । দীর্ঘ ছুটি থাকায় অনেক শিক্ষার্থী অনলাইনে ঠিক মতো ক্লাস করছে না । বাড়িতেও তারা লেখাপড়ায় মনোযোগী নয় তাই তাই সরকার পূর্বে থেকে যদি সপ্তাহে ২-৩ দিন ক্লাসের ব্যবস্থা করতো তাহলে শিক্ষার্থীরা কিছুটা পড়াশুনার মধ্যে থাকতো । বিশেষ করে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রায় সকল শিক্ষার্থীরাই এখন মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়েছে । তাই বিকল্প পদ্ধতিতে কী করে তাদের বই মুখো করা যায় তার পরিকল্পনা করা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে ।

হলি চাইল্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন,দীর্ঘ ছুটিতে শিক্ষার্থীরা আর বাড়িতে থাকতে চায় না । তারা স্কুলে আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছে । আমাকে অনেক অভিভাবক ফোন কওে সীমিত পরিসরে বিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন কিন্তু আমি সরকারের বিপক্ষে নয় । তাই আমার অভিমত সরকার সীমিত পরিসরে সপ্তাহে ২-৩ দিন ৩টা ক্লাস চলানোর সময় অনুমতি দিলে ভালো হতো ।

মাগুরার সুধীজন বিশিষ্ট কবি মিয়া ওয়াহিদ কামাল বাবলু বলেন,আমরা একটা কঠিন সময়ের মধ্যে পার করছি । করোনা সংক্রমন যখনই কমতে থাকে তখন সরকার যদি সীমিত পরিসরে স্কুল কলেজ খুলে দিল তাহলে শিক্ষার্থীদের মন ভালো হতো । নানা প্রতিকুল অবস্থার কথা বিবেচনা করে সরকার বিদ্যালয় খুলছে না । দীর্ঘ ছুটিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে । মোবাইল ,ইন্টারনেট ও নানা ধরনের অপরাধ কর্মকান্ডে যুক্ত হচ্ছে তারা । আবার অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা ছেড়ে নানা পেশায় যুক্ত হচ্ছে । তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার যত দ্রæত সম্ভব শিক্ষার্থীদের স্কুল মুখো করতে পরিকল্পনা করতে হবে ।

ডা. আবুল কাশেম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষা গবেষক বিশ্বাস মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন,আমরা একটি কঠিন সময় পার করছি । দীর্ঘ ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীতে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে । বাড়িতে তাদের শিক্ষামুলক কোন কাজ না থাকায় তা পড়াশুনায় ব্যস্ত হতে পারেনি । শিক্ষা একটি সামগ্রিক বিষয় । যে সময় করোনা ভাইরাস কম ছিল সে সময় যদি সরকার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ২-৩দিন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সামান্য পরিসরে পাঠদান অব্যাহত রাখত তাহলে শিক্ষার্থীরা এত ভেঙে পড়ত না । বর্তমান শিক্ষার্থীরা বই মুখো নয় । তারা এখন মোবাইল নির্ভর হয়ে পড়েছে । তাই অবিলম্বে যেকোন বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদেও এই হতাশা দূও করতে সীমিত সময়,সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা জরুরি  বলে মনে করেন তিনি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক মাগুরা.কম
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )